গ্রহরত্নের কি আদৌ রোগ নিরাময় ক্ষমতা আছে ?

গ্রহরত্নের চমৎকার

রোগ মুক্তিতে রত্নের ম্যাজিক ফলাফল | সৌর বর্ণালীর সাতটি রঙের সমন্বয়ে আমাদের দেহ গঠিত | এই সাতটি বর্ণালী যথাক্রমে বেগুনি, নীল , আকাশী, সবুজ, হলুদ , কমলা লাল | এই রংগুলি মূল রং হিসাবে পরিচিত | অন্যান্য রং তৈরী হয় একটি রঙের সঙ্গে অপর রং বা একাধিক রঙের সংমিশ্রনে | আমাদের শরীরে যদি এই মূল রঙের মধ্যে কোন একটি রঙের অনুপস্থিতি দেখা যায় তবে আমরা ওই রঙের অনুপস্থিতির কারণে রোগগ্রস্থ হয়ে পড়বো | লাল রঙের অভাব হলে আমরা যে রোগে আক্রান্ত হই তা হল এনিমিয়া, জ্বর, জ্বালাপোড়া , সাধারণ দুর্বলতা যা আমাদের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত করে তোলে | সেক্ষেত্রে আমাদের দেহে লাল রশ্মি ঢোকাতে হবে লাল গ্রহের রত্ন ধারণের মাধ্যমে |লাল গ্রহ হল সূর্য মঙ্গল | তাদের রত্নগুলি হল রুবী লাল প্রবাল | যখন এই রত্নগুলি আমাদের দেহের সংস্পর্শে আসে তখন তারা আমাদের দেহে লাল রং ঢুকতে সাহায্য করে | ফলে লাল রঙের ঘাটতি পূরণ হয় এবং আমরা রোগমুক্ত হই |  

যখন লাল রং আমাদের দেহে অতিরিক্ত হয়ে যায় , তখনও আমরা ফোঁড়া, টিউমার, সানস্ট্রোক, মাথাব্যথা, অনিদ্রা প্রভৃতি রোগে আক্রান্ত হই | এই রোগের হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে লাল রংকে নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ মাত্রায় নিয়ে আসতে হবে | সেক্ষেত্রে একই রুবী বা লাল প্রবাল ধারণ করা উচিত | সেগুলি অতিরিক্ত লাল রশ্মিকে প্রশমিত করবে এবং আমরা রোগমুক্ত হব |

প্রতিটি গ্রহের মহাজাগতিক রশ্মির একটি নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে | তারা আমাদের প্রচন্ডভাবে প্রভাব বিস্তার করতে চায় | আমাদের জন্মতারিখ অনুযায়ী আমাদের দেহ কিছু গ্রহগত কম্পন আয়ত্ত করতে পারে | এই গ্রহগত কম্পন birth number planet , fadic number planet , name number planet এবং অন্যান্য গ্রহের সঙ্গে সম্বন্ধ স্থাপন করে , যদি এই গ্রহগুলি জন্মছকে নেতিবাচকভাবে অবস্থান করে | এই সমস্ত গ্রহের নেতিবাচক ধারা মানুষের উপর পড়ে এবং ক্ষতিকারক ফলাফল তৈরী হয় | যে গ্রহের যে রত্ন প্রয়োজন তা ধারণে সেই গ্রহের ক্ষতিকর রশ্মি পরিশোধিত হয়ে উপকারী রশ্মি দেহে ঢোকে | রশ্মিগুলি বেশি বা কম যাহাই হোক না কেন, রত্নটি এটাকে প্রতিরোধ করে | ফলে আমাদের দেহে রশ্মিগুলির সমতা তৈরী হয় এবং গ্রহগুলির  ভালো প্রভাব দেখা যায় | এই ভাবে রত্নগুলি আমাদের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে |

কিছু কিছু রত্নের চমৎকার নিরাময় ক্ষমতা আছে | প্রতিটি রত্নই  কিছু রোগকে সঠিকভাবে নিরাময় করে থাকে | নিম্নে তা আলোচিত হল

গ্রহরত্নের চমৎকার 1

) ক্রনিক বাত রোগের জন্য একজনকে অবশ্যই নীলা ধারণ করা উচিত যতক্ষণ না রোগটি সম্পূর্ণ ভাবে সেরে যায় |

) স্নায়ুজনিত অস্বস্তি এবং বাতের ব্যথার জন্য একজনকে অবশ্যই পান্না ধারণ করতে হবে যতক্ষণ না রোগটি সম্পূর্ণভাবে সেরে যায়

) নিতম্ব এবং গাঁটে গাঁটে ব্যথা , পায়ের পাতা এবং বাহুর যন্ত্রণার জন্য একজনের অবশ্যই পোখরাজ ধারণ করা উচিত

) লিভারের সমস্যা, জন্ডিসের জন্য পোখরাজ অবশ্যই ধারণ করা উচিত

) তন্দ্রাচ্ছন্নভাব , বমি এবং জ্বরের জন্য একজনকে অবশ্যই ক্যাট আই ধারণ করতে হবে

) এজমা, ব্রঙ্কাইটিস , টিবি , ঠান্ডা লাগা, কফ , স্বাসকষ্টের জন্য একজনের অবশ্যই সাদা মুক্ত ধারণ করা উচিত |  

) এনিমিয়া ,দুর্বলতা নিবারণের জন্য লাল প্রবাল ধারণ করা অবশ্য কর্তব্য

) হৃদরোগের জন্য রুবী, অথবা পান্না অথবা হীরে ধারণ করা উচিত |

) কিডনি রোগের জন্য জেড, পান্না অথবা রক ক্রিস্টাল ধারণ করা উচিত |

১০) পাকস্থলীর রোগের জন্য পান্না ধারণ অবশ্য কর্তব্য |

১১) চামড়ার রোগ এবং কুষ্ঠ রোগের জন্য গোমেদ ধারণ করা উচিত

১২) মাইগ্রেন জনিত মাথাব্যথার জন্য ষ্টার সাফহায়ার অথবা জেড ধারণ করা কর্তব্য |

১৩) দাঁতের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে লাল প্রবাল, লাপিস লাজুলি অবশ্যই ধারণ করতে হবে |

১৪) নাক, কান গলার সমস্যার জন্য পোখরাজ সাদা প্রবাল ধারণ করা উচিত |  

১৫) মূত্রাশয়জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে মুক্তা, হীরে , পান্না, লাল প্রবাল, পোখরাজ, টোপাজ ধারণ করতে হবে |

১৬) রক্তজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নীলা, পান্না, রুবী ধারণ করতে হবে |

১৭) গভীর নিদ্রা পেতে হলে মুক্তা, মুনস্টোন , হলুদ টোপাজ ধারণ করতে হবে |

১৮) রক্তপ্রবাহ ঠিক মতো চালনা করতে, হার্ট ভালো রাখতে এবং হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে রুবী, গার্নেট, ষ্টার রুবী ধারণ করা উচিত |

১৯) দেহকোষগত সমস্যা , উত্তেজনা বৃদ্ধি নিবারণে অবশ্যই ধারণ করতে হবে মুনস্টোন মুক্তা |

২০) ফুসফুস এবং স্নায়ুতন্ত্র ঠিক মতো চালনা করতে হলে ধারণ করতে হবে পান্না, পেরিডট , মালাকাইট  জেড |

২১) সংক্রামিত আঘাত থেকে মুক্তি পেতে নীলা এবং আমেথিস্ট ধারণ করা উচিত |

২২) গর্ভপাত নিয়ন্ত্রণ করতে অবশ্যই ধারণ করতে হবে লাল প্রবাল মালাসাইট

২৩) কোষ্টকাঠিন্য দূর করতে লাল প্রবাল ধারণ করতে হবে |

Author Bio

Related Posts