মঘা, মুলা এবং অশ্বিনী নক্ষত্রের কারকতা

মঘা, মুলা এবং অশ্বিনী নক্ষত্রের কারকতা

মঘা, মুলা   এবং অশ্বিনী এরা সকলেই  কেতুর নক্ষত্র বলে ফলিত জ্যোতিষে বিবেচ্য |   গ্রহগণ ও নক্ষত্রগণ নিজ নিজ সংস্থানুসারে যেরূপ বলাবল ভোগ করিতে পারে, তেমনি জাতকেরও  সেই বলাবল অনুসারে তাহাদিগের ক্রিয়ার ইতরবিশেষ পরিলক্ষিত হয় |  এক্ষণে গ্রহ ও নক্ষত্রগণের স্বভাবগত পরিচয় দিলে, এতদসংক্রান্ত গূঢ়রহস্যের কতকটা উদ্ভেদ হতে পারবে | 

karkata-of-magha-mula-ashwini-nakshatra

কেতু: 

রাহুর মতো কেতুও ছায়া গ্রহ |  হিন্দু পুরাণ মতে দৈত্যের  মুণ্ড হল রাহু এবং ধড় হল কেতু |  কেতু সর্বদা রাহু থেকে ১৮০ ডিগ্রি দূরে অবস্থান করে |  কেতু ধুম্রবর্ণ , ভয়ঙ্কর শরীর বিশিষ্ট |  রাহুর মতো কেতুরও  নিজস্ব কোন ঘর নেই |  জ্যোতিষ মতে মীন রাশির ভাড়াটে গ্রহ হিসাবে কেতুকে ধরা হয়েছে |  কেতু একদিকে যেমন সন্ন্যাসী , প্রতাপযুক্ত কীর্তিশীল অন্যদিকে তেমনই অধার্মিক , নীতিহীন , মন্দ কাজের সঙ্গে যুক্ত |  কেতু মাতামহের কারক গ্রহ |  অন্যদিকে রাহু পিতামহের কারক | শরীরের দিক থেকে রাহু ও কেতু উদোর কর্ণরন্ধ্র সহ অন্যান্য রন্ধ্রের কারক |  রাহু দেহের উর্ধাঙ্গ সকল এবং কেতু দেহের নিম্নাঙ্গ সকলের নির্দেশ করে |  জোতিষ মতে কেতু নৈসর্গিক পাপ গ্রহ|  

 

অশ্বিনী (asyini)  

অবস্থান – মেষরাশির 0 ডিগ্রী হইতে 13 ডিগ্রী 20 মিনিট পর্যন্ত | 

অধিপতি  – মঙ্গল| 

দেবতা – দেববৈদ্য অশ্বী বা অশ্বনীকুমারদ্বয় | 

প্রতীক – ঘোড়ার মুখ | 

কারকতা – অশ্মসঙ্গী বা বীর ,চিকিৎসক হওয়া ,অশ্ম থেকে গতিশীল বস্তু – যেমন –গাড়িঘোড়া ,যানবাহন ,পরিবহন বিভাগ সম্বন্ধীয় | নাসাপথ ,নিশ্বাস, নাকিসুর | যমজ সন্তানের কারক | 

 

মঘা (magha)

অবস্থান – সিংহরাশির ০ ডিগ্রী হইতে ১৩ ডিগ্রী ২০ মিনিট পর্যন্ত | 

অধিপতি – রবি | 

দেবতা – পূর্বপুরুষগণ | 

প্রতীক – সিংহাসন | 

কারকতা – রবির কারকতার সাথে এর যথেষ্ট মিল আছে | রবি এই নক্ষত্রে প্রমূর্ত্ত (magnified) ও গৌরবান্বিত (dignified) হয় |  খুবই  উজ্জ্বল নক্ষত্র |  পিতৃকুলের গুণাগুণ ,সম্পদ ,ঐশ্বর্য্য  ,সৌন্দর্য্য ও শক্তিলাভের অনুকূল সামর্থ্য , জ্যোতি ,তীক্ষ্ণধী ,মহত্ত্ব ,পূর্বপুরুষগণ ,পিতা বা পিতৃব্য |  শনি এই নক্ষত্রে অশুভ ফলকারক,কিন্তু রবি ,চন্দ্র ,মঙ্গল ,বৃহস্পতি শুভ | 

 

মূলা (Mulaa) 

অবস্থান – ধনুর 0 ডিগ্রী হইতে ১৩ ডিগ্রী ২০ মিনিট পর্যন্ত | 

অধিপতি – বৃহস্পতি | 

দেবতা – নিঋতি অর্থাৎ অলক্ষী | 

প্রতীক – একত্রে বাঁধা মূলগুচ্ছ | 

কারকতা – মূলা অর্থে মূল  বা মৌলিকতা ,গভীরতা |  ঋত শব্দের  অর্থ সত্য আবার নিঋতি  শব্দের অর্থ অসত্য অন্য অর্থে বিপরীত |  এই নক্ষত্র দুর্ভাগ্যের কারক |  শনি ও কেতুর কারকতার সাথে মিল আছে | পুরাতন ভৃত্য ,মূল বা বীজ বিক্রয়কারী ,চিকিৎসক , ঔষধপত্র – সব কিছুর মূল সম্বন্ধে বিচার্য্য | মূল বেঁধে রাখে বলে ‘বন্ধকদ্রব্য ‘ বা সম্পত্তি ,দিকচক্রবাল ,রাজধানী ,শহর প্রভৃতি |

Author Bio

Related Posts