ভরণী, পূর্বফাল্গুনী এবং পূর্বাষাঢ়া নক্ষত্রের কারকতা

ভরণী, পূর্বফাল্গুনী এবং পূর্বাষাঢ়া এরা সকলেই শুক্রের নক্ষত্র বলে ফলিত জ্যোতিষে বিবেচ্য | গ্রহগণ ও নক্ষত্রগণ নিজ নিজ সংস্থানুসারে যেরূপ বলাবল ভোগ করিতে পারে, তেমনি জাতকেরও সেই বলাবল অনুসারে তাহাদিগের ক্রিয়ার ইতরবিশেষ পরিলক্ষিত হয় | এক্ষণে গ্রহ ও নক্ষত্রগণের স্বভাবগত পরিচয় দিলে, এতদসংক্রান্ত গূঢ়রহস্যের কতকটা উদ্ভেদ হতে পারবে |

ভরণী পূর্বফাল্গুনী এবং পূর্বাষাঢ়া নক্ষত্রের কারকতা

শুক্র: 

সৌম্য গ্রহ , শ্বেতবর্ণ , ব্রাহ্মণ , রজোগুণের অধিকারী, নৈসর্গিক শুভ গ্রহ | 

শুক্র প্রেম , বিবাহ, সৌন্দর্য , সঙ্গীত, শিল্পকলা, নৃত্য চিত্রবিদ্যা এবং স্ত্রীর কারক গ্রহ | 

শুক্রের আকৃতি মধ্যম , সুন্দর চোখ , টিকালো নাক, সুন্দর মুখ, কোঁকড়ানো চুল বিশিষ্ট |

শুক্র বৃষ ও তুলা রাশির অধিপতি | 

শুক্র মানবদেহের দুটি চোখ , কিডনি, প্রজনন অঙ্গ ইত্যাদির অধিকারী | 

কর্মক্ষেত্রে শুক্র কবি , সঙ্গীতকার, ভাস্কর , নাট্যকার , লেখক , ব্যবসায়ী, বিচারক , সরকারি কর্মচারী ইত্যাদি হতে পারে | শুক্র অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও শৌখিন, সমস্ত বিষয়ে অত্যন্ত পরিপাটি |

 

ভরণী (Bharani)

অবস্থান– মেষরাশির ১৩ ডিগ্রী ২০ মিনিট  হইতে ২৬ ডিগ্রী ৪০ মিনিট পর্যন্ত |

অধিপতি – মঙ্গল |

দেবতা – যম |

প্রতীক – জরায়ু মুখ (orifice of the womb).

কারকতা – ভরণী শব্দের অর্থ যা ভরণযোগ্য ,পোষ্য  ,চাকর আশ্রিত বা যাহা দ্বারা ভরণ করা যায় অর্থাৎ জীবিকা অর্জন করা যায় |এই নক্ষত্র একদিকে ঐশ্বর্য্য ,ভোগ ,সাহস ,উৎসাহ ,বলবীর্যের কারক আর একদিকে যা কিছু শুভ ,শুদ্ধ ,সাধু ,সত্যতার কারক |রাহুর জন্ম নক্ষত্র ভারণী

 

পূর্বফল্গুনী (Purbo Phalguni) 

অবস্থান – সিংহরাশির ১৩ ডিগ্রী ২০ মিনিট হইতে ২৬ ডিগ্রী ৪০ মিনিট পর্যন্ত |

অধিপতি – রবি |

দেবতা – সিংহ |

প্রতীক – দোদুল্যমান বিছানা |

কারকতা – এই নক্ষত্রের দুইটা দিক আছে |একদিকে যেমন ভোগ ,ইন্দ্রিয়সুখ ,সুখসমৃদ্ধির কারক অন্যদিকে তেমনি নিষ্কাম বৈরাগ্যের কারক |এছাড়া আনন্দ ,অধ্যবাসায় ,সাধনা ,ফললাভের উদ্যম   ,উন্নতির চেষ্টা করা ,সেবা করা ,সম্ভ্রম করা ,ভেঙে ভিতর থেকে বের হওয়া ,যশ, প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি এই নক্ষত্রের গুণ |বৃহস্পতি ,রবি ,শুক্র এই নক্ষত্রে যথেষ্ট শুভ ফলদাতা |পূর্ব ও উত্তরফাল্গুনী নক্ষত্র সৌভাগ্যের  প্রতীক |

 

পূর্বাষাঢ়া (Purbasara) 

অবস্থান – ধনুর ১৩ ডিগ্রী ২০ মিনিট হইতে ২৬ ডিগ্রী ৪০ মিনিট পর্যন্ত |

অধিপতি – বৃহস্পতি |

দেবতা – তোয় (বরুনের অন্য নাম )|

প্রতীক – হাত পাখা|

কারকতা –  পূর্বাষাঢ়া অর্থে ব্যাপ্তি ,জলের মতো ব্যাপ্তি ,ঢেকে রাখা ,অধীনকে রক্ষা করা ,বিপদে অটল থাকা ,ক্ষমা ,দয়া ,তিতিক্ষা ,জয় করা ,জলীয় বস্তু ,জলপথে গমন ,জলজ প্রাণী ,সেতু, নৌ ও জল বিষয়ক ,মৎস ,মৎস ব্যবসায়ী  ,জলযান – নৌকা ,জাহাজ ,বরফ ,বাষ্প ,শিলাবৃষ্টি ,জলবিষয়ক পীড়াদি |

Author Bio

Related Posts